ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

coronavirus
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বিশ্বব্যাপী ৩২১৮৮৪২৩ ২৩৭৪৮৬৩৩ ৯৮৩৪৫৭
বাংলাদেশ ৩৫২১৭৮ ২৬০৩৯০ ৫০০৭

আগামী বছর ই-কমার্স সেক্টরে ৫ লাখ কর্মসংস্থান: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৯:২০, ১৩ মে ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, যেভাবে মানুষ জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ই-কমার্সের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক বছর ই-কমার্স, মার্কেটপ্লেস, লজিস্টিক সব সেবা মিলিয়ে এই খাতে প্রায় ৫ লাখ কর্মসংস্থানের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) অনলাইনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ই-ক্যাবের উপদেষ্টা নাহিম রাজ্জাক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ওবায়দুল আজম, ডব্লিউটিও সেল এর পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী করোনা সংক্রান্ত সাধারণ ছুটির সময় জরুরি পণ্য সেবা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় ই-ক্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

ই-ক্যাবের উপদেষ্টা নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন, অনলাইন ব্যবসার গতি ডিজিটাল পেমেন্টকে ত্বরান্বিত করবে এবং আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা আরো গতিশীল হয়ে উঠবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-ক্যাবের মতো সবাই নিজেদের করনীয় সম্পর্কে সচেতন হলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকেই ই-ক্যাবের ডাকে সাড়া দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।  তাই একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়েছে অন্যদিকে জনসাধারণ ও ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ধাপে ধাপে অনুমতি দিয়েছে।

একসময় ব্যবসা খাত পুরোটাই ই-কমার্স নির্ভর হয়ে পড়বে। তাই সম্ভাবনাময় এই খাতের জন্য ঋণ সুবিধা নিয়ে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসা উচিত। প্রয়োজনে তাদের ঋণ দেয়ার শর্তকে শিথিল করার আহবান জানান তিনি।

এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ই-কমার্সের সম্ভাবনা আমাদের সামনে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। এখন আমরা যদি ক্রস বর্ডার ই-কমার্সকে সহযোগিতা করে আরো বিকশিত করতে পারি। দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এই খাত। যারা এখনো প্রচলিত পন্থায় ব্যবসা করেন তাদের ই-কমার্সে আসার সময় হয়ে গেছে। এরইমধ্যে অনেকে অনলাইন বিজনেস শুরু করেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ই-বাণিজ্য করব নিজের ব্যবসা গড়ব প্রকল্পের’ পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের অধীনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এ যাবত ১৪৭৫ জন তরুণকে ই-কমার্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের অনেকে নিজের ব্যবসা শুরু করেছে অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এই প্রকল্প অব্যাহত থাকলে এ সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে শুধু ব্যবসার কথা না ভেবে অনলাইন উদ্যোক্তারা নিজেদের কর্মী ও জনসাধারণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টিতে নজর দিয়ে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ই-ক্যাব প্রথম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে অনলাইন মেম্বার রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু করেছে। ঘরে বসেই এখন ই-ক্যাবের মেম্বার হওয়া যায়। এ যাবত দুইশ’টি কোম্পানি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অনলাইনে আবেদন করেছে। করোনা সংকটের শুরুতেই ই-ক্যাব ভার্চুয়াল সেক্রেটারিয়েট চালু করেছে। ই-কমার্স ও লজিস্টিক সেবা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য একটি সাপোর্ট সেন্টার খোলা হয়। করোনা সংক্রান্ত তথ্যের জন্যও একটি আলাদা তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষকে সাপোর্ট সেন্টার ও তথ্যকেন্দ্র থেকে সেবা দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া করোনায় অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ই-ক্যাব মানবসেবা ডট কম নামে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ই-ক্যাবের সদস্য ও দাতাদের অনুদান দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ যাবত ৫ শতাধিক মানুষকে জরুরি খাদ্য সহযোগিতা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চালডাল, আড়ং, ওয়ালটনের, ইভ্যালি, দারাজ, ডায়বেটিক স্টোর, ফুডপান্ডা, হাংরিনাকি ও এসএসএল কমার্জ এর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ই-ক্যাবের পরিচালকরাও এতে অংশ নেন।

 

Add