AllBanglaNews24

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ২৯ জানুয়ারি ২০২৪

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর কমন কিছু প্রবলেম

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর কমন কিছু প্রবলেম

সংগৃহীত

স্টার্টআপ কোম্পানিতে কাজ করার সময়ে আমি যে সমস্যাগুলি লক্ষ্য করেছি, তার কিছু অংশ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। আশাকরি, অনেকেই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে তারা, যারা স্টার্টআপ দেবার পরিকল্পনা করছেন বা স্টার্টআপ কোম্পানিতে জয়িন করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই পোস্ট। সমস্যাগুলো কি, তা জানা থাকলে অনেকাংশেই তা নির্মুল করা সম্ভব।

১। প্রথমেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়িন্ট যেটি তা হলো, হায়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রচন্ড শংকায় থাকা এবং ভুল কাউকে হায়ার করা:
স্টার্টাপ কোম্পানিগুলো যাকে হায়ার করছে তার ব্যাপারে কনফিডেন্ট হতে পারে না। এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ, পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকা। এছাড়াও, লো-পে স্যালারি স্ট্রাকচার, রিসোর্স ঘাটতি ইত্যাদি।
প্রথমাবস্থায়, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর হাতে খুব বেশি ফান্ড থাকে না বা রিসোর্সেস থাকে না। ফলে, হায়ারিং করার ক্ষেত্রে স্বভাবতই একটা দূর্বলতা থেকে যায়।
এক্সপিরিয়েন্সড আর স্কিলড ডেভেলপারদের মার্কেটে প্রচুর চাহিদা থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই তারা লো স্কেলে জব করতে ইচ্ছুক হয় না। আর যারা ইচ্ছা পোষণ করে তাদের মাঝে অধিকাংশই নতুন বা মিডিওকোর টাইপের। হাতেগোনা কয়েকজনের প্রকৃত স্কিল থাকে।

২। দ্বিতীয় যে পয়িন্ট সেটি হলো, শুরুর দিকের ডেভেলপারদের সাথে পরবর্তী হায়ারড ডেভেলপারদের বনিবনা না হওয়া:
কোম্পানির শুরুতে, নিজেদের পরিচিত কেও যদি থেকে থাকে যারা মোটামুটি ডেভেলপমেন্ট শিখেছে বা শিখছেন, তাদের দিয়েই সব ম্যানেজ করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। শুরুর দিকে যাদের হায়ার করা হয়, তারাই চেষ্টা করেন কোম্পানির হাল ধরতে। এর কারন, ১ নম্বর পয়িন্টেই উল্লেখ করেছি। ইনাফ ফান্ড এবং রিসোর্স না থাকায় যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে অধিক বেতনে চাকরি দেওয়ার সক্ষমতা থাকে না বলেই, এমনদিকে ঝুঁকে যান ফাউন্ডাররা।
এক্ষেত্রে, কোম্পানির লংটার্ম সাসটেইন করা অনেকাংশেই বিঘ্নিত হয় যদি ইনিশিয়াল ডেভেলপারগন নিজেদের ইম্প্রুভ না করেন বা পরবর্তী হায়ারিং এর ক্ষেত্রে নিজেদেরকেই সর্বেসর্বা মনে করেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, হায়ারিং এর ক্ষেত্রে এনারা যখন ইন্টার্ভিউ নেন, দক্ষতার অভাব থাকায় অদক্ষ কর্মী হায়ারড হবার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। যা কোম্পানির জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায়।
এছাড়াও, অনেকসময় দেখা যায়, দক্ষ কর্মী হায়ার করা হলেও সেই দক্ষতার সাথে নিজেদের মানিয়ে নেবার সক্ষমতা থাকে না। শুরু হয় কোম্পানি পলিটিক্স! এটি আরেকটি ভয়ানক সমস্যা। যদিওবা, সব কোম্পানিতেই এমনটি লক্ষ্য করা যায়, তবুও স্টার্টআপগুলো সাধারণত অনভিজ্ঞ হওয়ায় এসব সামলাতে একটু বেশিই হিমশিম খেয়ে যায়৷
এমন চলতে থাকলে, নতুন যিনি হায়ারড হলেন তিনি তার সবটুকু পোটেনশিয়াল কোম্পানিকে দিতে পারেন না। ফলে, কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেইসাথে, ডেভেলপাররাও জব সুইচ করার চিন্তা করে। ফ্রাস্টেটেড হয়ে পরবর্তীতে, কোম্পানিতে আর তেমন এফোর্ট দিতে চায় না।

৩। তিন নম্বর পয়িন্ট হলো, কোম্পানি কালচার আন্ডারডেভেলপড থাকা:
একটি কোম্পানিতে বিভিন্ন ঘরানার, বিভিন্ন মেন্টালিটির, বিভিন্ন স্তরের মানুষজন কাজ করেন। তাদের সাথে ডিল করার ক্ষেত্রে ইনিশিয়ালি স্টার্টআপগুলো দূর্বল থাকে। নানাবিধ কমিউনিকেশন গ্যাপ থাকার ফলশ্রুতিতে, লংটার্ম ইমপ্লয়মেন্ট করা বা রাখা বাধাগ্রস্ত হয়।

৪। একটু হাস্যকর কিন্তু, খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়িন্ট হলো, ভাই-ভাগার-দোস্ত কালচার থাকা:
প্রত্যেক মুসলিমই ভাই ভাই। একই উম্মাহ, তবে, সবক্ষেত্রে ভাই ভাই কালচার রাখলে আপনাকেই বিপদে পড়তে হবে।
উদাহরনস্বরুপ, টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা যদি প্রফেশনালি ডিল করতে না পারি দেখা যায় বন্ধু-বন্ধু, ভাই-ভাই সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে যেমন, যতই ভাই হোক, দোস্ত হোক, প্রফেশনালি হ্যান্ডেল করার প্রয়োজন পড়ে, ঠিক একইভাবে, একটি কোম্পানিকে সাসটেইন করাতে হলে সময়, স্যালারি, ইমপ্লয়ি স্টাটাস সবকিছু প্রফেশনালি হ্যান্ডেল করা জরুরি।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোম্পানি যেহেতু, সবে মাত্র শুরু হতে যাচ্ছে বা হয়েছে এবং অনেক ফ্যাসিলিটিস প্রভাইড করতে পারছে না, সেহেতু, জিগারের ভাই, জিগারের দোস্ত ইত্যাদি নানান শব্দ ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে অনেক ফ্যাসিলিটিস সহ নানানকিছু দেবার প্রলোভন ধরিয়ে ইমপ্লয়িকে আটকে রাখতে চায়। একটা সময়, ইমপ্লয়িও তার প্রফেশনালিজম ছেড়ে, ভাই ভাগারদের মতই বিহেভ করতে থাকে। কাজে ফাঁকি দিতে থাকে। ভাবতে থাকে, "সমস্যা কোথায়? ভাই ই তো, প্যাঁড়া নাই, আজকে করি নাই, কাল করে দিবোনে।"
এছাড়াও, যারা ভালো এবং পাঙ্কচুয়াল ডেভেলপার থাকেন তারাঅ এদের দেখাদেখি কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
কম্পানি ভাব থাকে, "আরেহ ভাই-ভাগার-দোস্ত মানুষ! কাজ তো ভালবেসেই করবে।" আর বাস্তবে, একের পর এক ডেডলাইন মিস হতে হতে একসময় সেই ইমপ্লয়ি তো পালায়ই সেইসাথে, কোম্পানিও কোল্যাপস করে।

৫। আরেকটি গুরুতপূর্ন পয়িন্ট হলো, ক্লায়েন্ট রিকয়ার্মেন্ট ঠিকমত না বুঝা:
অনেক ক্ষেত্রেই শুরুর দিকে অনেকে কোম্পানিই যে ভুলটি করে থাকে তা হলো, ক্লায়েন্ট রিকয়ার্মেন্ট না বুঝেই কাজ শুরু করে দেয় বা কাজ নিয়ে ফেলে। এর ফলে, কাজে পর্যাপ্ত সময়-শ্রম-অর্থ ব্যয় হবার পরেও আউটপুট হয় শূন্য। ধীরে ধীরে, ক্লায়েন্ট অন্য কোন কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে শুরু করে।

৬। একইভাবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ন পয়িন্ট হলো, প্রপার SRS ডকুমেন্ট না থাকা:
একটি SRS ডকুমেন্ট হলো, যেকোন প্রজেক্টের মূল রোডম্যাপ। যাতে লিপিবদ্ধ থাকে প্রজেক্টের সমস্ত রিকয়ার্মেন্টস। কিভাবে আগাতে হবে, কোন প্যাটার্নে আগাতে হবে, প্রতি পার্ট করতে কতদিন সময় লাগবে, কতজন ডেভেলপার লাগবে ইত্যাদি নানানকিছু সম্পর্কে এই এক ডকুমেন্টেই ক্লিয়ার ধারনা পাওয়া যায়। যা কাজকে করে দেয় স্মুথ।
অথচ, বেশিরভাগ স্টার্টআপগুলো এই ডকুমেন্ট ব্যবহার তো দূরে থাক নামও শুনে নি এমনভাব দেখায়। এই ডকুমেন্ট না থাকার ফলে, একই আপডেটের জন্য বারবার কোড রিফ্যাক্টোরিং থেকে শুরু করে ক্লায়েন্টের সাথে পেমেন্ট নিয়ে, সময় নিয়ে, ফিচার রিকোয়স্ট নিয়ে বারবার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হতে থাকে। যার ফলে, কোম্পানির রেপুটেশন ডাউন হতে শুরু করে।

৭। সাত নম্বরে যে পয়িন্টটি উল্লেখ করবো সেটি হচ্ছে, প্রজেক্টে সঠিক লিডারশিপ না থাকা:
একটি কোম্পানিতে বিভিন্ন রকম প্রজেক্টস করা হয়ে থাকে। সবাই সব প্রজেক্টে সমান দক্ষতার সাথে কখনোই কাজ করতে পারে না। এক্ষেত্রে, কোম্পানির উচিত, যিনি দক্ষ তাকেই সে প্রজেক্টে লিড হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রেই, সঠিক লিডারশিপ না থাকায় বা একজনকে দিয়েই সব কিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা করাতে, প্রজেক্টের সঠিক আউটপুট পাওয়া সম্ভব হয় না।

৮। সর্বশেষ ও আট নম্বর পয়িন্টটি হলো, শেখার সুযোগ কম থাকা:
যারা কাজ করছেন তাদের নতুন স্কিল শেখার সুযোগ থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক স্টার্টআপই মনে করে থাকে, আমাদের শুধু কাজ হলেই হলো, আর কিছু দেখার সময় নেই। একারনে, নতুন কিছু শেখার সুযোগ থেকে ডেভেলপাররা পিছিয়ে পড়ে। এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রে কম্পিটিশন না থাকা বা ভেড়ার মাঝে বাছুর সর্দার হয়ে নতুন কিছু আর শিখতে না চাওয়ার কারণে, ডেভেলপাররা সময়ের সাথে নতুন টেকনলজিস, প্রসেস, বেস্ট প্র্যাক্টিসেস ইত্যাদির সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে, কম্পানির গ্রোথ কমতে থাকে। অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় পিছিয়ে পড়ে কম্পিটিশনে।
মনে রাখতে হবে যে, একটি কোম্পানির কর্মীরা উন্নত হচ্ছে মানেই কোম্পানি আগাচ্ছে। কর্মীরা যদি দূর্বল হয়, তবে কোম্পানিও দূর্বল হবে।

এখানেই আজকের আর্টিকেল শেষ করছি।
ধন্যবাদ পুরো লেখাটি পড়ার জন্য। যদি কোনকিছু ভুল হয়ে থাকে বা সংশোধনের প্রয়োজনবোধ করেন অবশ্যই জানাবেন। সেইসাথে, আপনার কোন মতামত থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

শেয়ার করুন

Advertising
allbanglanewspaper-link

সর্বশেষ

Add